আমানি বার্থ pdf download | আয়িশা আল হাজ্জার

 





"আমানি বার্থ"নামটা পড়ে প্রথমে কিছুটা খটমটে লেগেছে। এর নিচে যে "প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মা হওয়ার উপায়" লিখা আছে, তা আমার চোখে পড়েনি। প্রচ্ছদের ছবি দেখে বইটি সম্পর্কেও তেমন ধারণা করতে ব্যর্থ হয়েছিলাম!

হঠাৎ বন্ধুবর আনিসের কথায় বইটা সম্পর্কে প্রথম জানতে পারি। যখন প্রকাশনী থেকে বইটা হাতে নিয়ে এর কনটেন্টগুলো দেখছিলাম, তখন মনে মনে আফসোস হলো এই বইটাকে আগে কেন আমি প্রত্যাখ্যান করেছিলাম!

রুমে আসতে আসতে এর অনুবাদিকার কথা পড়ে ফেললাম। মনে হলো এই বই আমার অজানায় থাকা মানে আমি পৃথিবী সম্পর্কে কিছুই জানি না৷

চলুন বইটির বিশেষত্ব সম্পর্কে জানি :

লেখিকা আয়িশা আল হাজ্জারের ২৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়। যখন উনি বইটি লিখছেন তখন উনার ৮ম বাচ্চা দুনিয়ার মুখ দেখেছেন,আলহামদুলিল্লাহ। আরেকটা তথ্য সংযুক্ত করি, উনার সবগুলো বাচ্চাই প্রাকৃতিক উপায়ে হয়েছে (সিজার করা লাগেনি)।

এবার একটু এনালাইসিসে আসি, মেয়েদের পিরিয়ড শুরু হয় ১৩-১৫ বয়সে। স্টান্ডার্ড মান হলো ১৫ থেকে শুরু হয়ে ৪৯ বছরে শেষ । এর মধ্যে ২০-৩০ বছর হলো সন্তান জন্মের উপযুক্ত সময়। ৩০ এর পর সন্তান কন্সিভ করাটা একটু ডিফিকাল্ট হয়ে যায়। এমনটা রিসার্চ বলে। আর ৪০ এর পর আরও বেশি সমস্যা পোহাতে হয় শারীরিক কিছু কন্ডিশনের কারণে। এমনটাও রিসার্চ বলে।

লেখিকা আয়িশা আল হাজ্জারের ২৫ বছরে বিয়ে হয়ে উনার ৪৯ বছর পর্যন্ত ৮ টা বাচ্চা প্রাকৃতিক উপায়ে হয়েছে। তার মানে ৪৯-২৫=২৫ বছর। এই ২৫ বছরে উনার সন্তান হয় ৮ জন। ২৫/৮= ৩ বছর ১ মাস করে প্রতিটি বাচ্চা মায়ের একান্ত সান্নিধ্যে থাকতে পেরেছে।

তাহলে প্রতিটি সন্তান ৬ মাস এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং (৬ মাস শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানো) এর কারণে হয়েছে (উনার বক্তব্য অনুযায়ী) এবং ২ বছর বুকের দুধ সহ বাড়ন্ত খাবার দিয়েছে।

ঠিক দু'বছর যখন প্রথম বাচ্চার বয়স চলছে, তখনই উনি দ্বিতীয় বাচ্চা কন্সিভ করেছেন। প্রথম বাচ্চার তখন ২ বছর বয়স। দ্বিতীয় বাচ্চার যখন ডেলিভারি হবে তখন প্রথম বাচ্চার বয়স তিন বছর (সাধারণ হিসেব)। ঠিক এমন প্রক্রিয়ায়ই উনার ৮ টি সন্তান জন্ম নিয়েছে, তাও আবার প্রাকৃতিক উপায়ে।

লেখিকা এই বইতে পুরো বিষয়টা প্রাকৃতিক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। মেয়েদের জন্মই হলো সন্তান উৎপাদনের জন্যে। কেউ বেশি সন্তান জন্ম দিবে আর কেউবা কম৷ তাদেরকে এই প্রসব যন্ত্রণার মধ্য দিয়েই বাচ্চা জন্ম দিতে হবে। এই প্রক্রিয়াই চলমান পৃথিবী সৃষ্টির প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত। লেখিকা এই প্রাকৃতিক বিষয়টাকে প্রাকৃতিক হিসেবে ভাবার একটা লেন্স বা চশমা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।

মায়েদের বাচ্চা প্রসব করাটা একটা প্রাকৃতিক বিষয়। কোন পুরুষ এই প্রক্রিয়ায় বাচ্চা জন্ম দিতেই পারবেনা। এই প্রাকৃতিক বিষয়টাকে আমাদের প্রজন্ম প্রাকৃতিক হিসেবে নিতেই পারছেনা। তারা মনে করে প্রসব যন্ত্রণা হলেই সে মারা যাবে। কিন্তু এই প্রসবের কারণে মৃত্যু এটা মেডিকেল সাইন্সও রক্ষা করতে পারে না। হয়তো তারা বাচ্চা প্রসবের সঠিক সময়ের আগেই সিজার করে আর দাবী করে মা ও বাচ্চা দুজনকেই বাঁচিয়েছি আমরা!

তবে এই যে, সঠিক সময়ের আগে তাদের হিরো হওয়ার বিষয়টা! এটা খুব ভাবনার একটা বিষয়। আসলেই কি সঠিক সময়ের আগে বাচ্চা জন্ম নিলে কি কি ক্ষতি হয় তাও উনি বইতে উল্লেখ করেছেন। বইতে লেখিকা এই মেডিকেল হস্তক্ষেপকে ভালো করে বুঝিয়েছেন। মেডিকেল সাইন্স প্রাকৃতিক বিষয়টাকে হস্তক্ষেপের জন্যে তৈরি নয়। প্রাকৃতিক বিষয়টাকে সাহায্য করা এবং যাদের ইমার্জেন্সি সিচুয়েশন! তাদের উপকারের জন্যেই মেডিকেল সাইন্স প্রয়োজন।

বাচ্চা জন্ম হওয়া এবং কোন টাইমে হবে এটা টেস্ট করিয়ে সময় নির্ধারণ করাটা একটা বোকামী। কারণ প্রাকৃতিক বিষয়টাকে প্রাকৃতিকের উপরই ছেড়ে দেয়া প্রয়োজন। তাকে প্রাকৃতিক নিয়মেই ডেলিভারি হওয়ার উপরে ছেড়ে দিতে হবে। যাতে সবকিছু প্রাকৃতিক উপায়েই সম্পন্ন হয়।

এর পাশাপাশি লেখিকা কিছু বিষয়কে বারবার হাইলাইটস করেছেন। তা আমি সংক্ষিপ্ত আকারে দিচ্ছি। যেমন:

১/ প্রসব সম্পর্কে মায়ের পর্যাপ্ত জ্ঞান।
২/ প্রসবসঙ্গীর পরিচয়ও দায়িত্ব।
৩/ গর্ভধারণে ফিজিওলজি।
৪/ প্রসব অভিজ্ঞতা উপভোগ করা।
৫/ গর্ভকালীন পুষ্টি।
৬/ গর্ভকালীন ব্যায়া। (প্রাকৃতিক উপায়ে প্রসব করার জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ)
৭/ প্রসবের প্রাকৃতিক নিয়ম। (বিস্তর আলোচনা করছেন)
৮/ প্রসবে মেডিকেল হস্তক্ষেপের বিপদ ও প্রয়োজন।
৯/ বুকের দুধ খাওয়া ও “শুধু একবার ফিডার দেওয়া” নিয়ে জনশ্রুতি।

লেখিকা ৩০ টা অধ্যায়ে এই বইটিকে সাজিয়েছেন মায়েদের জন্যে। 



বইটির পিডিএফ লিংক


একটি ড্রাইভ লিংক বাকি দুটো ফাঁকা


Post a Comment

0 Comments